ডাংগা জমিদার বাড়ি, নরসিংদী

ডাংগা জমিদার বাড়ি, আলোকচিত্র: wikipedia.org

 অবস্থান | Location

নরসিংদী জেলাধীন পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের জয়নগর এলাকায় এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ডাংগা বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ডাংগা জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এ জমিদার বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে লক্ষ্মণ সাহার জমিদার বাড়ি বা উকিল বাড়ি হিসেবেও পরিচিত।

 জিও কো-অর্ডিনেট | GeoCoordinate

নরসিংদী জেলার ডাংগা জমিদার বাড়িটির জিও কো-অর্ডিনেট (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ) হল 23°53’56.7″N 90°35’41.4″E (23.899094, 90.594826)

স্থাপত‌্যিক বিবরণ | Architectural Description

দক্ষিণমুখী ডাংগা জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর দোতলাবিশিষ্ট ১টি প্রাসাদ। এছাড়া জমিদার বাড়ির প্রবেশমুখে পূর্ব পাশে রয়েছে কারুকার্য খচিত ১টি রাধাগোবিন্দ মন্দির, দোতলাবিশিষ্ট প্রাসাদটি থেকে ২০ মিটার পশ্চিম দিকে রয়েছে ১টি দুর্গা মন্দির, দুর্গা মন্দির থেকে ১০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে রয়েছে সাঁন বাঁধানো ঘাটবিশিষ্ট পুকুর, পুকুরটির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে মঠ সদৃশ প্রার্থনাগৃহ এবং জমিদার বাড়ির পিছন জুড়ে রয়েছে বৃক্ষরাজির বাগান। জমিদার বাড়িসহ এ বাগানের চারিদিক উঁচু প্রাচীর বেষ্টিত রয়েছে।

জমিদার বাড়িটির ২৪ কক্ষবিশিষ্ট দোতলা প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য মধ্যে – লোহা ও কাঠের বর্গার উপরে নির্মিত সমতল ছাদ (flat roof); প্রবেশপথ, জানালাসহ সামনের বারান্দার বহির্দেয়ালে ত্রিপত্র (trefoil), সমতল (flat), অর্ধ-বৃত্তাকার (semi-circular) ও পয়েন্টেড সেগমেন্টাল (pointed segmental) খিলানের (arch) প্রতিফলন; নিচতলা ও দোতলার টানা সম্মুখ বারান্দা; দোতলার বারান্দার সামনে লোহার অলংকৃত র‌্যালিং (ornamented railing); দোতলার সামনের দেয়ালে ঝুলন্ত বারান্দা, দেয়াল জুড়ে অলংকৃত আস্তর (stucco ornamentation), করিন্থিয়ান কলাম (Corinthian column) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। জমিদার বাড়ির অধিকাংশ স্থাপনা এখনও বেশ ভাল অবস্থা রয়েছে। তবে পুকুরের চারপাশের মঠ বা মন্দিরগুলোর ধ্বংস হয়ে গেছে।

এছাড়া ডাংগা জমিদার বাড়ি থেকে নিকট দূরত্বে অপরূপ কারুকার্য ও স্থাপত্যশৈলীর একাধিক প্রাচীন স্থাপনা নিয়ে নির্মিত উদ্ধব সাহার বাড়ি দেখতে পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | Historical Background

ডাংগা জমিদার বাড়ির সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে লিখিত কোন তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, জনৈক লক্ষ্মণ সাহা তৎকালীন ভারতবর্ষের নরসিংদীর এ এলাকাটিতে প্রধান জমিদারের অধীন উপ-জমিদার (গাতিদার) ছিলেন। জমিদার লক্ষ্মণ সাহা ডাংগা জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। জমিদার লক্ষ্মণ সাহার (১) বঙ্কু সাহা, (২) নিকুঞ্জ সাহা ও (৩) পেরিমোহন সাহা নামে তিন ছেলে ছিল। লক্ষ্মণ সাহার মৃত্যুর কয়েক বছর পরে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের সময় বঙ্কু সাহা ডাংগা জমিদার বাড়ি ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর ১৯৭১ সালের পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার কিছু পূর্বে নিকুঞ্জ সাহাও ভারতে চলে যান। তখন জমিদার বাড়িতে বসবাস করতেন পেরিমোহন সাহা। বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা নামে পেরিমোহন সাহার এক ছেলে ছিল। পেরিমোহন সাহার মৃত্যুর পর বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা জমিদার বাড়িটি আহম্মদ আলী উকিলের কাছে বিক্রি করে নারায়ণগঞ্জ চলে যান। পরবর্তীতে আহম্মদ আলীর স্ত্রীর নাম অনুসারে বাড়িটির নামকরণ করা হয় জামিনা মহল। লিপিবদ্ধ বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত, জমিদার বাড়িটির স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয় যে, আনুমানিক খ্রিস্টীয় ১৯ শতকের শেষার্ধ্বে কিংবা ২০ শতকের প্রথমার্ধ্বে ডাংগা জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।     ৪

লেখক: মো. শাহীন আলম  

Add a Comment

Your email address will not be published.