বালিয়া মসজিদ, ঠাকুরগাঁও

অবস্থান | Location

বালিয়া মসজিদ ঠাকুরগাঁও জেলাধীন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ছোট বালিয়া নামক গ্রামে অবস্থিত। এ মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ছোট বালিয়া মসজিদ নামেও পরিচিত।

জিও কো-অর্ডিনেট | GeoCoordinate

ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থিত বালিয়া মসজিদটির জিও কো-অর্ডিনেট (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ) হল 26°07’31.0″N 88°33’50.4″E (26.125283, 88.564010)

স্থাপত্যিক বিবরণ | Architectural Description

বালিয়া মসজিদটি আয়তাকার ভূমি পরিকল্পনায় উঁচু একটি প্লাটফরমের উপরে নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির ছাদে এক সারিতে ৩টি গম্বুজ (dome) এবং চারকোণে ৪টি টারেট (turret) রয়েছে। মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আরও ২টি করে টারেট (turret) রয়েছে। গম্বুজ ও টারেটগুলোর উপরে পদ্ম (inverted lotus) নকশাসহ অলংকৃত শীর্ষচুড়া (finial) রয়েছে। গম্বুজের নিচের অংশে(drum) চারিদিকে মারলন (blind marlon) অলংকরণ রয়েছে। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে ৩টি প্রবেশপথ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ১টি করে জানালা রয়েছে। আস্তরবিহীন এ মসজিদের দেয়াল জুড়ে ফুল ও লতাপাতাসহ বিভিন্ন নকশার অলংকরণ রয়েছে। অলংকৃত নকশাগুলো মধ‌্যে ঘণ্টা, আমলকি, কলস, বাটি, পদ্ম প্রভৃতি উল্লেখ‌যোগ‌্য। মসজিদটির পূর্ব দিকে সামনের অংশে অনুচ্চ প্রাচীর ঘেরা উন্মুক্ত আঙ্গিনা রয়েছে। আঙ্গিনার পূর্বদিকে দৃষ্টিনন্দন ১টি তোরণ শোভিত পথ (arcade) রয়েছে। মসজিদটির নির্মাণ কাজে ইটের সাথে চুন সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে মুঘল [Mughal] স্থাপত‌্যশৈলী ও নির্মাণকৌশল যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | Historical Background

বালিয়া মসজিদের নির্মাণ ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, মেহের বক্স চৌধুরী নামে এক স্থানীয় জমিদার খ্রিস্টীয় ১৯ শতাব্দীর শেষ ভাগে বালিয়াতে ১টি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। এ নির্মাণ কাজের জন্য জমিদার মেহের চৌধুরী দিল্লির আগ্রা মতান্তরে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে স্থপতি নিয়ে আসেন। মুঘল স্থাপত্য রীতিতে নকশাকৃত এ মসজিদটির নির্মাণকালে হঠাৎ করে প্রধান স্থপতির মৃত্যু হয়। ফলে মসজিদটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে মেহের চৌধুরী স্থানীয় কারিগরের সহায়তায় পুনরায় মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে এ কারিগররা মসজিদটির গম্বুজ নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে মেহের বক্স চৌধুরী পরলোক গমন করেন। এর কয়েক বছর পরে মেহের চৌধুরীর ছোট ভাই মসজিদটি পুন:নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে তিনিও পরলোক গমন করেন। যার ফলে গম্বুজ ছাড়াই মসজিদটি বহু বছর দাঁড়িয়ে থাকে। অবশেষে ২০১০ সালে মেহের চৌধুরীর ছেলে মরহুম বসরত আলী চৌধুরীর কন্যা শিল্পপতি তসরিফা খাতুন বালিয়া মসজিদটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন। সংস্কারকালে ৩টি গম্বুজ ও ৮টি টারেটসহ মসজিদটির অসম্পন্ন অংশের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

লেখক: মো: শাহীন আলম

Add a Comment

Your email address will not be published.