রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়ি, ঠাকুরগাঁও | Zamindar House of King Tonkonath , Thakurgaon

রাণীশংকৈল রাজবাড়ী

অবস্থান | Location

রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলাধীন রাণীশংকৈল উপজেলার পূর্বপ্রান্তে সহোদর নামক গ্রামে (পৌরসভার ওয়ার্ড নম্বর ১-এ) এবং কুলিক নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। এ জমিদারটি স্থানীয়দের কাছে রাণীশংকৈল রাজবাড়ি বা রাজা টংকনাথ চৌধুরীর রাজবাড়ি হিসেবেও পরিচিত

জিও কো-অর্ডিনেট | GeoCoordinate

ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থিত রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়িটির জিও কো-অর্ডিনেট (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ) হল 25°53’33.8″ N 88°16’28.2″ E (25.892724, 88.274491)। 

 স্থাপত্যিক বিবরণ | Architectural Description

রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়িটির পশ্চিম দিকে রয়েছে সিংহ দরজা। সিংহ দরজার শীর্ষদেশে রয়েছে একটি দিক নির্দেশক দণ্ড। লোহার তৈরি এ দিক নির্দেশক দণ্ডটির গায়ে S.N.E.W উৎকীর্ণ রয়েছে। এ জমিদার বাড়িটির উত্তর-পূর্ব কোণে রয়েছে কাচারী বাড়ি। জমিদার বাড়ির পশ্চিমাংশে ১টি পুকুর ও পূর্বাংশে ২টি পুকুর রয়েছে। জমিদার বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণ দিকে কুলিক নদীর পূর্ব তীরে এবং রাস্তার পূর্বপাশে রামচন্দ্র (জয়কালী) মন্দির অবস্থিত। অনুমান করা হয় যে, এ মন্দিরটি জমিদার বাড়িটির চেয়ে প্রাচীন। জানা যায় যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে পাকিস্তানী সেনারা মন্দিরটির ক্ষতি সাধন করে। এ জমিদার বাড়িটিতে বিদ‌্যমান স্থাপনাসমূহে নির্মাণে ইট, টালি, চুন, কাঠ, লোহার বর্গা প্রভৃতি উপকরণ ব‌্যবহার করা হয়েছে। একতলা ও দোতলাবিশিষ্ট স্থাপনাসমূহে সমতল ছাদ (flat roof), প্রবেশপথে অর্ধ-বৃত্তাকার খিলান (semi-circular arch) ও সেগমেন্টাল খিলান (segmental arch), বারান্দায় লোহার অলংকৃত র‌্যালীং (ornamented railing), দেয়ালে অলংকৃত আস্তর (stucco ornamentation) প্রভৃতি স্থাপত‌্যশৈলী প্রতিফলিত হয়েছে। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | Historical Background

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, রাণীশংকৈল টংকনাথের জমিদার বাড়িটি হল মালদুয়ার জমিদার রাজা টংকনাথ চৌধুরীর রাজবাড়ি। রাজা টংকনাথ চৌধুরীর পিতার নাম ছিলেন বুদ্ধিনাথ চৌধুরী। বুদ্ধিনাথ চৌধুরী ছিলেন একজন মৈথিলি ব্রাহ্মণ। তিনি কাতিহারে ঘোষ বা গোয়ালা বংশীয় জমিদারের শ্যামরাই মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। ঘোষ জমিদার ছিলেন নিঃসন্তান। বৃদ্ধ ঘোষ জমিদার কাশী বাসে গমনকালে তাঁর সমস্ত জমিদারি সেবায়েতের তত্ত্বাবধানে রেখে যান। তামার পাতে (copper plate) দলিল করে যান যে, তিনি (ঘোষ) কাশী থেকে ফিরে না এলে শ্যামরাই মন্দিরের সেবায়েত এ জমিদারির মালিক হবেন। পরে বৃদ্ধ জমিদার ফিরে আসেননি। আর এ কারণে বুদ্ধিনাথ চৌধুরী জমিদারি পেয়ে যান। তবে অনেকেই মনে করেন যে, এ ঘটনাটি বুদ্ধিনাথের ২-১ পুরুষ আগে ঘটে থাকতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে টংকনাথ চৌধুরী রাজা পদবী লাভ করেন। বুদ্ধিনাথ চৌধুরী এ টংকনাথের জমিদার বাড়িটির (রাজবাড়ি) নির্মাণ কাজ শুরু করেন। রাজা টংকনাথ নিজে জমিদার বাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। আরও জানা যায় যে, খ্রিস্টীয় ১৯ শতাব্দীর শেষভাগে রাজবাড়িটি নির্মাণ করা হয়।

লেখক: মো: শাহীন আলম

Add a Comment

Your email address will not be published.